কোন ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন উৎপন্ন করে?

Updated: 1 year ago
  • Pseudomonas
  • Agrobacterium
  • Rhizobium
  • Escherichia
296
ব্যাখ্যাঃ

মানুষের বৃহদন্ত্রে এসচেরিচিয়া কোলাই (Escherichia coli) নামক ব্যাকটেরিয়া বাস করে। এই ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন K এবং বি-কমপ্লেক্স গ্রুপের কিছু ভিটামিন (যেমন: থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি১২) সংশ্লেষণ করে, যা মানুষের শরীরের জন্য অপরিহার্য। এই ভিটামিনগুলো অন্ত্র থেকে রক্তে শোষিত হয়ে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়।

অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলোর পরিচিতি:

        
  • সিউডোমোনাস (Pseudomonas): এটি একটি বহুপ্রজাতিক ব্যাকটেরিয়া। এর বিভিন্ন প্রজাতি মাটি, পানি এবং উদ্ভিদে পাওয়া যায়। কিছু প্রজাতি উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টি করে, আবার কিছু প্রজাতি জৈব পদার্থ বিয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কিছু প্রজাতি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হিসেবে পরিচিত। এরা প্রধানত ভিটামিন উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া হিসেবে পরিচিত নয়।
  •     
  • অ্যাগ্রোব্যাকটেরিয়াম (Agrobacterium): এটি প্রধানত উদ্ভিদে টিউমার সৃষ্টিকারী (Crown Gall Disease) ব্যাকটেরিয়া হিসেবে পরিচিত। এর একটি প্রজাতি, Agrobacterium tumefaciens, উদ্ভিদ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভেক্টর হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি ভিটামিন উৎপাদনে সরাসরি জড়িত নয়।
  •     
  • রাইজোবিয়াম (Rhizobium): এই ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলে নডিউল তৈরি করে এবং সেখানে মিথোজীবী সম্পর্ক স্থাপন করে বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদের ব্যবহার উপযোগী অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত করে (নাইট্রোজেন সংবন্ধন)। এটি উদ্ভিদের পুষ্টিতে সাহায্য করলেও ভিটামিন উৎপাদনের জন্য প্রধানত পরিচিত নয়।
Satt AI
Satt AI
5 days ago

ব্যাকটেরিয়া (Bacteria, একবচনে- Bacterium)

ব্যাকটেরিয়া (গ্রিক শব্দ, Bakterion = ছোট দন্ড) একধরনের এককোষী আণুবীক্ষণিক জীব । জীবজগতে এগুলোই সরলতম ও ক্ষুদ্রতম জীব বলে পরিচিত। ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক (Antony Van Leeuwenhock) সর্বপ্রথম তাঁর আবিষ্কৃত অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এগুলোর নাম দেন animaleule বা ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাঁকে ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয় ।

লিউয়েনহুক আবিষ্কৃত এসব অণুজীব পরবর্তী প্রায় ২০০ বছর অজানাই রয়ে যায়। ১৮২৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ (C.G. Ehrenberg) সর্বপ্রথম "bacteria" শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীকালে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ( Louis Pasteur) ও ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে জার্মান চিকিৎসক বিজ্ঞানী রবার্ট কচ (Robert Koch) প্রমাণ করেন যে অত্যন্ত ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব বিভিন্ন প্রাণিদেহে নানা রকম রোগ সৃষ্টিতে সক্ষম। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্জিস নামক একজন গবেষক সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন ব্যাকটেরিয়া নামক ক্ষুদ্র জীব উদ্ভিদেও রোগ সৃষ্টি করে।(ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে কোষীয় অঙ্গাণুবিহীন, জটিল কোষপ্রাচীর ও আদিপ্রকৃতির (prokaryotic ) নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট ক্ষুদ্রতম সরল প্রকৃতির এককোষী আণুবীক্ষণিক জীব।

বিস্তৃতি ও আবাসস্থল : ব্যাকটেরিয়ার বিস্তৃতি প্রায় বিশ্বব্যাপী। এরা মাটি, বায়ু, পানি, জীবদেহের ভিতর ও বাইরে অবস্থান করে। মানুষের অন্ত্রেও এদের পাওয়া যায়। এর মধ্যে Ecoli ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সরবরাহ করে। প্রকৃতিতে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থেকে শুরু করে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকতে পারে। পানি বা মাটিতে জৈব পদার্থ বেশি থাকলে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও সেখানে অধিক থাকে। জৈব পদার্থসমৃদ্ধ আবাদী মাটিতে ব্যাকটেরিয়া পর্যাপ্ত থাকে। মাটির গভীরে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। বাতাসে থাকলেও বায়ুস্তরের অনেক উচুঁতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি তেমন নেই।

ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য 

১. ব্যাকটেরিয়া কোষীয় জীবদের মধ্যে অতি ক্ষুদ্র (০.২-৫.০um), সরল এবং আণুবীক্ষণিক

২. এরা একক বা দলবদ্ধ হয়ে বাস করে।

৩. ব্যাকটেরিয়ার প্রোটোপ্লাজম আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত (prokaryotic nucleus), অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার ঝিল্লি, নিউক্লিওলাস ও ক্রোমাটিন জালিকা থাকে না। শুধু একটি প্যাঁচানো দ্বিসূত্রক DNA তন্তু থাকে। সেজন্য ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিয়াসকে নিউক্লিয়ার বস্তু বা নিউক্লিওয়েড (nucleoid) বলে।

৪. প্রোটোপ্লাজমে কেবল রাইবোজোম (70S) ও মেসোজোম থাকে। একক পর্দাবৃত কোনো কোষ অঙ্গাণু নেই । 

৫. ব্যাকটেরিয়া কোষে কোষঝিল্লির বাইরে একটি সুগঠিত কোষপ্রাচীর রয়েছে, যার প্রধান উপাদান  মিউকোপেপটাইড বা পেপটাইডোগ্লাইক্যান, সাথে পলিস্যাকারাইড, মুরামিক এসিড ও টিকোয়িক এসিড থাকে। 

৬. অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া পরভোজী ( heterotrophic), কিছু স্বভোজী (autotrophic)। স্বভোজী ব্যাকটেরিয়ার দেহে বিভিন্ন সালোকসংশ্লেষীয় রঞ্জক, যেমন-ব্যাকটেরিওক্লোরোফিল, ব্যাকটেরিওভিরিডিন বা ক্লোরোবিয়াম ক্লোরোফিল এবং ক্যারোটিনয়েড উপস্থিত থাকে।

৭. এদের কতনা বাধ্যতামূলক অবায়বীয় (obligate anaerobes) অর্থাৎ অক্সিজেন থাকলে বাঁচতে পারে না। কতক সুবিধাবাদী অবায়বীয় (facultative anaerobes) অর্থাৎ অক্সিজেনের উপস্থিতিতেও বাঁচতে পারে এবং কতক বাধ্যতামূলক বায়বীয় (obligate aerohes) অর্থাৎ অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না ।

৮. প্রচন্ড ঠান্ডা (-১৭°C) থেকে শুরু করে ৮০°C তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে।

৯. ক্রোমোজোম থাকায় ব্যাকটেরিয়ায় মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষবিভাজন ঘটে না ।

১০. এদের বংশবৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া বিভাজন (binary fission)। 

১১. ফাজ ভাইরাসের প্রতি এরা খুবই সংবেদনশীল ।

১২. এদের অধিকাংশই অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 

১৩. প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এন্ডোস্পোর (cndospore) গঠন করে । 

১৪. ব্যাকটেরিয়া সাধারণত বেসিক রং (গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ) ধারণ করতে পারে।

Related Question

View All
Updated: 5 months ago
  • সেলুলোজ
  • কাইটিন
  • ফ্ল্যাজেলা
  • পলিস্যাকারাইড
155
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই